মৃত্যুর পরে ও আত্মার কথা - ডাঃ মরিস রলিংস্ পিডিএফ - বাংলা বই এর pdf ডাউনলোড-Bangla Digital Boi Pdf

Latest

Monday, July 3, 2023

মৃত্যুর পরে ও আত্মার কথা - ডাঃ মরিস রলিংস্ পিডিএফ


মৃত্যুর পরে ও আত্মার কথা - ডাঃ মরিস রলিংস্, বাংলা বই পিডিএফ
ডিজিটাল বইয়ের নাম- মৃত্যুর পরে ও আত্মার কথা
লেখক- ডাঃ মরিস রলিংস্
সম্পাদনা ও ভাষান্তর - হীরালাল চক্রবর্তী
বইয়ের ধরন-  ধর্ম সমন্ধীয় বই
ফাইলের ধরন- পিডিএফ
এই বইতে মোট পৃষ্টা আছে- ১১৮
ডিজিটাল বইয়ের সাইজ-  ৯এমবি
আপলোডার - মিঠু মিত্র
প্রিন্ট ভালো, জলছাপ মুক্ত

মৃত্যুর পরে ও আত্মার কথা


ভুমিকা-
প্রায়ই দেখা যায় যে, আধুনিক চিকিৎসক সম্প্রদায় (সবদেশেই) আধ্যাত্মিকতার সহিত যে জড়িত আছেন, এইরূপ পরিচয় দিতে কুণ্ঠা বোধ করেন। কারণ তাঁহারা তাঁহাদের জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে অত্যন্ত সচেতন, সন্ত্রস্ত ও ভীত। মেডিকেল জুরিসপ্রুডেন্স-এ ( Medical Jurisprudence) যাহার উল্লেখ নাই বা এখনও লিখিত হয় নাই। সেইরূপ কিছু ঘটিতে দেখিলে, তাঁহারা বেমালুম চাপিয়া যান, বা গোপন করিতে চেষ্টা করেন, কিম্বা সরাসরি অস্বীকার করেন। সত্যকে স্বীকার করিবার মতো মনোবল ইহাদের নাই। সেই জন্য আত্মার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিশেষ প্রচার নেই।
কিন্তু ইহার ব্যতিক্রমও আছে। সত্য ঘটনাকে স্বীকার করিয়া তাহার বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব অনুসন্ধান করেন এরূপ চিকিৎসকও আছেন। ঐরূপ অতি বিরল ও দুর্লভ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন চিকিৎসকদের মধ্যে একজন হইলেন :
Dr. MAURICE S. RAWLINGS, Sr. M. D., Head of the Department of Cardio Pulmonary Diseases, Diagnostic Centre, Tennesse, U.S.A.
তিনি যাহা লক্ষ্য করিয়াছেন তাহা সত্য বলিয়া শুধু যে স্বীকার করিয়াছেন তাহাই নহে, তাহার বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব অনুসন্ধান করিয়া যে থীসিস প্রস্তুত করিয়াছেন তাহাই পুস্তকাকারে প্রকাশিত হইয়াছে ।
ইহার বঙ্গানুবাদ “মরণের পরেই" ইহার বিষয়বস্তু এইরূপ :
আত্মার অস্তিত্ব তিনি নিঃসন্দেহে প্রমাণ করিয়াছেন। সুক্ষ্ম শরীরী আত্মা দেহ ছাড়িয়া গেলে স্থূল শরীর মৃত বলিয়া গণ্য হয় অথবা শরীরের স্বাভাবিক ক্রিয়া বন্ধ হইলে আত্মা দেহ ছাড়িয়া যাইতে বাধ্য হয়। তাঁহার কেস-রিপোর্টগুলি তাহাই প্রমাণ করে।
তিনি বহু হার্ট-অ্যাটাকে মৃত রোগীকে রিসাসীটেশন (Resuscitation) পদ্ধতি প্রয়োগ করিয়া বাচাইয়া তুলিয়াছেন। যাহারা একবার মারা যাইবার পর পুনরায় জীবন ফিরিয়া পাইয়াছেন তাঁহাদের মধ্যে কেহ কেহ মৃত সময়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করিয়াছেন। যখন রোগীটি মৃত ছিলেন এবং তাঁহাকে বাঁচাইয়া তুলিবার চেষ্টা চলিতেছিল সেই সময় ঘরের মধ্যে কে কে ছিল বা আসিয়াছিল বা চিকিৎসকগণ তাহারই শরীরের উপর কি করিতেছিলেন বা কে কি বলিয়াছিল কিম্বা কাহার পোষাক কিরূপ ছিল তাহার পূর্ণ বিবরণ দিয়াছেন এবং পরে তাহা মিলাইয়া দেখা হইয়াছে এবং ইহা নির্ভুল ভাবে মিলিয়া গিয়াছে। ইহাতে ইহাই প্রমাণ হয় যে, স্থুল দেহ ছাড়াও এখন একটি সত্বা বা সুক্ষ্ম শরীর আছে যাহা ঐ সব দেখিতে পারে, শুনিতে পারে এবং তাহাকে মনে করিয়াও রাখিতে পারে। ঐ সুক্ষ্ম শরীর স্থুল দেহ ছাড়িয়া গেলে শরীর মৃত বলিয়া গণ্য হয় অথবা শরীরে স্বাভাবিক ক্রিয়া বন্ধ হইলে ঐ সূক্ষ্ম শরীর স্থুল দেহ ছাড়িয়া বাহিরে আসিতে বাধ্য হয়।
পুনরায় জীবিত হইয়াছেন এরূপ ব্যক্তিদের মধ্যে কেহ কেহ স্বর্গ বা নরকের বর্ণনাও দিয়াছেন, যাহা তাঁহাদের আত্মা দেখিয়া আসিয়াছে। এই বর্ণনাগুলি খুবই বিস্ময়কর ও শিক্ষাগ্রহ। স্বর্গারোহণের বর্ণনাগুলি খুবই মনোহর ও সুখকর। কিন্তু নরকের বর্ণনা এত সাঙ্ঘাতিক যে ভাষায় তাহা বর্ণনা করা যায় না এবং রোগীদের পূর্ব অভিজ্ঞতার সহিত মিলে না বলিয়া মনে করিয়াও রাখিতে পারে না এবং নিজেরাও ভুলিতে পারিলে বাঁচে। এইজন্য নরক দর্শনের যথাযথ খবর পাওয়া এক দুঃসাধ্য ব্যাপার। তথাপি নরক দর্শনের কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করা হইয়াছে। নরকের প্রতিটি বর্ণনা একটি হইতে অপরটি ভিন্ন। কোনও সাধারণ যোগসূত্র পাওয়া যায় না। তবে সকলেই বলিয়া থাকে যে, দেহ হইতে বিচ্ছিন্ন হইবার পর অপর কোনও শক্তির দ্বারা ইহারা চালিত হয় । ইহাদিগকে যমদূত বলিয়া কল্পনা করা হয়।
স্বর্গারোহণের ব্যাপারে দেখা যায় কিছু বাদ-ছাদ দিলে খবরগুলির মধ্যে একটি। সাধারণ যোগসূত্র পাওয়া যায়। প্রায় সকলেই অপর শক্তির দ্বারা চালিত হইয়া কোনও অন্ধকার সুড়ঙ্গ পথের মধ্যে দিয়া তীব্র গতিতে চলিতে থাকে। পরে কোনও আলোকময় স্থানে আসিয়া, পূর্বেই মারা গিয়াছে এইরূপ আত্মীয় স্বজনের সহিত দেখা সাক্ষাৎ হয়। পরে একটি বাধার সম্মুখীন হয়। এই বাধা কোন কোন ক্ষেত্রে পাথরের দেওয়াল বা পাহাড় বা সাধারণ বেড়া। এই বাধার ওপারে যাইতে পারে না। যদি যায় তবে আর ফিরিয়া আসিতে পারিবে না । এইখানে কোনও শক্তিশালী মহাপুরুষের সহিত দেখা হয়। এই স্থান হইতে পুনরায় ফিরিয়া আসে। কয়েকটি ক্ষেত্রে কেহ কেহ বাধা অতিক্রম করিয়া ওপারের রাজ্যেও প্রবেশ করিয়াছে। এখানের পরিবেশ অতি স্নিগ্ধ, মনোরম ও আনন্দদায়ক। সাফল্যের অভিজ্ঞতা এক নয়।
পরলোক সংক্রান্ত এই বর্ণনাগুলি হিন্দু ফিলজফির সহিত সুন্দর মিলিয়া যায়। বস্তুতঃপক্ষে এই পুস্তকে বর্ণিত ঘটনাগুলি হিন্দু আধ্যাত্মিকতার গভীরতা সম্বন্ধে এক নূতন প্রমাণপত্র, যদিও ডাঃ রলিংস হিন্দু ফিলজফি জানেন না বা পড়েন নাই।
ডা: রলিংস বছর দশেক পূর্বে যখন একটি হার্ট অ্যাটাকে মৃত রোগীকে রিসা সীটেশন প্রয়োগ করিয়া বাঁচাইয়া তুলিবার চেষ্টা করিতেছিলেন তখন সে হঠাৎ বাঁচিয়া উঠিয়া বলিতে লাগিল যে, সে এতক্ষণ নরকে ছিল এবং ক্রমাগত অনুরোধ করিতে লাগিল তাহাকে যেন বাঁচাইয়া তোলা হয়, যাহাতে পুনরায় তাহাকে নরকে ফিরিয়া যাইতে না। হয়। তাহার বীভৎস ও আতঙ্কিত অবস্থা এত সাংঘাতিক ছিল যে, তাহা দেখিয়া তিনি নিজেই আতঙ্কিত হইয়া উঠেন। এই ঘটনা ও উহার পরের অন্য কয়েকটি ঘটনা তাঁহাকে এতই বিচলিত করে যে, আর কালবিলম্ব না করিয়া তিনি এই থসিসটি সংকলন করেন ।
রিসার্সীটেশন (Resuscitation ) বা কৃত্রিম উপায়ে রক্ত সঞ্চালন ও শ্বাস-প্রশ্বাস চালন পদ্ধতি এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছে যে বিশ্বব্যাপী Medical Profession ইহাতে অতিরিক্ত উৎসাহ দেখাইতেছেন। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি উন্নত দেশগুলিতে ইহা Medical Support হিসাবে গৃহীত হইয়াছে। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীগণকেও শিখান হইতেছে। সুদক্ষ ও শিক্ষিত চিকিৎসকের সাহায্য আসিবার পূর্বেই ইহা অর্থাৎ এই প্রক্রিয়া চালনা করিতে হয়। কারণ চার মিনিটের বেশী সময় অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ থাকিলে মানুষ বরাবরের জন্য মারা যায়। আর বাঁচান সম্ভব হয় না। সুতরাং গলায় দড়ি দিয়া আত্মহত্যা, অলডুবি, রোড অ্যাক্সিডেন্ট, বিষম লাগা, শ্বাস রোধ, হার্ট অ্যাটাক ইলেকট্রিক শক, ও বজ্রাঘাত, ইত্যাদিতে যাহারা মারা যায় তাহাদের অনেককেই বাঁচান সম্ভব হয় যদি এই পদ্ধতি জানা থাকে। চিকিৎসক বা এ্যাম্বুলেন্স ডাকিবার সময় থাকে না, আর যখন তাঁহারা আসিয়া হাজির হন, তখন সব শেষ হইয়া যায়। সুতরাং রিসার্সীটেশন পদ্ধতি শিখাইবার প্রয়োজনীয়তা বলিবার অপেক্ষা রাখে না। গৃহের মহিলারাও যাহাতে এই পদ্ধতি সহজেই শিক্ষা করিতে পারে সেই উদ্দেশ্যে চিত্রসহ ইহার কৌশলগুলি বর্ণনা করিয়াছি।
যাহারা আধ্যাত্মিকতা সম্বন্ধে অবহিত নহেন কিন্তু অবহিত হইতে চান, তাঁহাদের অবগতির জন্য মূল পুত্রে বা তত্ত্বগুলি প্রশ্ন-উত্তর হিসাবে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করিয়াছি । তাহাদের মানসিক প্রস্তুতির প্রথম সোপান হিসাবে একটি অধ্যায় সংযোজন করিয়াছি।
আধ্যাত্মিকতা এমন এক বিষয় যে, ইহা আকাশের মতই সীমাহীন, কোনও ফুল কিনারা পাওয়া যায় না। তথাপি দৈনন্দিন জীবনে যে সব সমস্যা দেখা দেয় তাহার আধ্যাত্মিক দিক আলোচনা করিয়াছি, যাহাতে স্কুল বা কলেজের ছাত্র-ছাত্রীগণ নিজের নিজের সমস্যাগুলি সমাধান করিয়া লইতে পারে। ইহলোক-রহস্য, ভক্তি-রহস্য ও পরলোক-রহস্য এই তিন ভাগে ভাগ করিয়া এইগুলি আলোচনা করিয়াছি। তত্ত্বগুলি বিশ্লেষণ করিবার সময় স্বামী বিবেকানদের ইংরাজী বক্তৃতাগুলি হইতে সাহায্য লইয়াছি।
ইহাতে জানা যাইবে মানুষের আত্মার উচ্চ বা অধোগতির মূল কারণ। কর্মফলের প্রবল প্রভাব ইত্যাদি। ইহলোক ও পরলোকের শাসনতন্ত্র ও আলোচনা করা হইয়াছে।

* পরলোক সংক্রান্ত আরো বই সংগ্রহ করিতে পারেন-
> "মরন-রহস্য" নিখিলনাথ রায়
>দেহত্যাগ ও পরবর্তী জীবন- প্রতাপচন্দ্র ভট্টাচার্য

ইহলোকের সহিত পরলোকের সংযোগসূত্র অর্থাৎ আত্মার স্থুল দেহধারণ, স্থিতি এবং দেহত্যাগ ও পরলোকে গমন, পরলোকে স্থিতি ও পুনরায় দেহধারণ কেন হয় ও কিভাবে হয় তাহার মূল রহস্য বিশ্লেষণ করিয়াছি। গীতায় বর্ণিত কর্ম রহস্য নিজ পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করিয়াছি। সম্ভবত বাংলা সাহিত্যে এইরূপ প্রচেষ্টা এই প্রথম ।
আধ্যাত্মিক জ্ঞান মানুষের মনে আত্ম-বিশ্বাস ফিরাইয়া আনে। এই পুস্তকটি এত উচ্চশ্রেণীর, যিনি একবার পড়িবেন তাঁহার তৃপ্তি আসিবে না তিনি পুনরায় পড়িতে চাহিবেন এবং তাঁহার চরিত্রে কিছু পরিবর্তন আসিবে, তিনি যতই নিকৃষ্ট চরিত্রের হউন না কেন। এই পুস্তক পাঠ করিবার পর অনেকেরই জীবনের মোড় ফিরিয়া যাইবে ।
বাইবেলে বর্ণিত খৃষ্টান ধর্মে অনাবশ্যক কথাগুলি বাদ দিয়া পুস্তকের কলেবর সংক্ষিপ্ত করিয়াছি যাহাতে এই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির যুগেও পুস্তকটি সুলভ হয় ও অতিসাধারণ ব্যক্তিরও ক্রয়শক্তির মধ্যেই থাকে।
সর্বশেষে স্বামী বিবেকানন্দের কর্মযোগ প্রসঙ্গে উপদেশগুলি সংক্ষেপে সন্নিবেশিত করিয়াছি যাহাতে ছাত্র-ছাত্রীগণ চরিত্র গঠনে উৎসাহী ও মনোযোগী হয়।

ডাঃ রলিংস যাহাদিগকে বাঁচাইয়া তুলিয়াছেন তাহাদের মধ্যে একজন এইরূপ মন্তব্য করিয়াছে যে, “আমি বিশ্বাস করিতাম ধন-দৌলত ও সামাজিক প্রতিষ্ঠা জীবনের একমাত্র প্রয়োজনীয় বস্তু, কিন্তু এখন দেখিতেছি উহার আদৌ কোনও মূল্য নাই । প্রেম, প্রীতি, ভালবাসা ও শুভেচ্ছা যাহা তুমি অপরকে জানাইয়াছ তাহাই চিরস্থায়ী হইয়া থাকে।” এইরূপ বহু মন্তব্য এখানে দেখান হইয়াছে। যাহা হউক আমিও আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ ফুলটি আমার স্বজাতীকে ভালবাসার নিদর্শন স্বরূপ উপহার দিয়া শেষ করিলাম। ইতি— হীরালাল চক্রবর্তী

উপরোক্ত বাংলা বইটির পিডিএফ ফাইল সংগ্রহ করুন অথবা অনলাইনে পড়ুন
প্রিয় পাঠকগণ, এই পোষ্ট হইতে অসাধারণ একটি অনুবাদ বই- 'মৃত্যুর পরে ও আত্মার কথা - ডাঃ মরিস রলিংস্'-এর পিডিএফ সংগ্রহ করিতে পারিবেন।

No comments:

Post a Comment