মহাভারত নীতি অনীতি দুর্নীতি- নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী বাংলা বই - বাংলা বই এর pdf ডাউনলোড-Bangla Digital Boi Pdf

Latest

Sunday, June 7, 2020

মহাভারত নীতি অনীতি দুর্নীতি- নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী বাংলা বই


মহাভারত নীতি অনীতি দুর্নীতি- নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী বাংলা বই
ডিজিটাল বইয়ের নাম- মহাভারত নীতি অনীতি দুর্নীতি
লেখক- নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
বইয়ের ধরন- দর্শনের বই
ফাইলের ধরন- পিডিএফ
এই বইতে মোট পৃষ্টা আছে- ৪২০
ডিজিটাল বইয়ের সাইজ- ১৪এমবি
প্রিন্ট খুব ভালো, জলছাপ মুক্ত

মহাভারত নীতি অনীতি দুর্নীতি এই বইয়ের লেখকের কথা-

আমি নিজে সম্পূর্ণ সাধু এবং সজ্জন ব্যক্তি নই বলেই এটা বুঝতে পারি যে, জীবন্ত এক চলমান সমাজ কখনো সম্পূর্ণ সাধু এবং সৎ হতে পারে না। ঠিক এই কারণেই নীতি-বস্তুটা আমার কাছে পাথরে লেখা কোনো কঠিন সীমাবদ্ধ ভাবনা নয়। মহাভারত যেহেতু প্রাচীনকালের এক চলমান সমাজের কথা বলে এবং সেখানে যখন এই কথাটা পেলাম যে, ধর্মও কখনো অধর্মের রূপ ধারণ করে, আবার অধমও কখনো ধর্মের রূপ ধারণ করে, কখনো আবার ধর্ম বস্তুটাকে ধর্মের মতোই দেখা যায়, কিন্তু এই যে বিচার, সেটা শেষ জায়গায় এসে বুদ্ধি দিয়েই করতে হয় - বিদ্বাংস স্তং সংপ্রপশ্যন্তি বুদ্ধ্যা। ফলত বুদ্ধি দিয়েই আমি বিচার করে বুঝেছি যে, মহাভারত যে ধর্মনীতির কথা বলে, সেখানে সকালে উঠে সন্ধ্যা-আহ্নিক না করলেই ‘প্রত্যবায়' বা দোষ হয় না, সেখানেও দেশ, কাল, পাত্র কিংবা সিচুয়েশনের বিচারটুকু জরুরী হয়ে পড়ে, অর্থাৎ কিনা সকালের সন্ধ্যা-আহ্নিকটা কেন করতে পারল না, সে বিচারটাও চাই।

নৈতিকতার ব্যাপারে শুধু এই সাধারণ স্মৃতি-শাস্ত্রীয় নিয়ম-কানুনই নয়, জীবনের আরো অনন্ত গভীর ব্যাপার আছে, অনন্ত ভাব-বিকার আছে ঘৃণা, জুগুপ্সা, প্রেম, ভালবাসা এবং যুদ্ধ - এখানে অনন্ত ঘটনা-পরম্পরা আছে, যার ওপরে নির্ভর করে সত্য, সততা এবং ধর্মের বিচার হবে। খুব ভাল একটা কথা বলেছিলেন বৈয়াকরণ পতঞ্জলি। বলেছিলেন - যে কোনো ক্রিয়াই কিন্তু একটা ক্রিয়ামাত্র নয়। যে কোনো ক্রিয়াই অনেকগুলি ক্রিয়ার সমষ্টি – পূর্বাপরীভূত : ব্যাপার কলাপঃ। অর্থাৎ কিনা ভাত রান্না করছি - এই রান্না করার মধ্যে চাল ধোয়া থেকে আরম্ভ করে হাঁড়িতে চাল চাপানো, চাল উল্টানো, তাকে সামাল দেওয়া, সিদ্ধ হয়ে গেলে হাঁড়ি নামানো, মাড় গালার পর হাঁড়ি সুস্থিত করে রাখা পর্যন্ত সমস্ত কাজগুলি নিয়ে তবে ভাত রান্না হয়। নীতি-নৈতিকতার ক্ষেত্রগুলিও কিন্তু একই রকম। একটি বাচ্চা ছেলে যখন লোভের খাবার চুরি করে খায়, তখন তাকে চুরির দায়ে অভিযুক্ত করার আগে দশবার ভেবে দেখা উচিত তার বয়স এবং তার পূর্বতন ব্যবহার, তার সামাজিক, পারিবারিক, অর্থনৈতিক অবস্থা।
মহাভারতে অনীমান্ডব্যের কাছে স্বয়ং ধর্মকেও অভিশাপ লাভ করতে হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছিল - একটি নির্দিষ্ট বয়সের আগে একটি বালককে কখনোই তার অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করা যাবে না। অনুরূপভাবে দেবযানীর সঙ্গে বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও সেই সম্পর্কের মধ্যে প্রায় জোর করে ঢুকে পড়েই শর্মিষ্ঠা যখন তার যৌবনের প্রাপ্য আদায় করে নেন তখন এমনই মহান উদারতায় তার বিচার করেছেন মহাভারতের কবি যে, বৈবাহিক শাস্ত্রীয়তার চেয়েও ভালবাসা এখানে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে- এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, কালিদাসের মৃত্যুঞ্জয়ী নাটক অভিজ্ঞানশকুন্তলে কথ-মুনি শকুন্তলাকে আশীর্বাদ করে বলেন- মহারাজ যযাতির কাছে শর্মিষ্ঠা যে গৌরব লাভ করেছিলেন, তুমিও তেমনই গৌরব লাভ করো দুষ্যন্তের কাছে।
আসলে এই গ্রন্থসূত্রে আমরা জানতে চাই যে, নীতি-নৈতিকতা এবং ধর্মের ক্ষেত্রে ভারতবর্ষের মতো উদার দেশ খুব কমই আছে। বিশেষত পরিস্থিতির প্রয়োজনে ‘পূর্বাপরীভূত ব্যাপারগুলির বিচার বিবেচনা করে নীতির কাঠিন্যের জায়গাটুকু পরিহার করাটা আপাতদৃষ্টিতে ধর্ম-বিগর্হিত মনে হতে পারে, কিন্তু সমাজ, ব্যক্তি এবং ব্যক্তিজীবনের বৃহত্তর প্রয়োজনে কাঠিন্যের আবরণভঙ্গটুকুও যে ধারণাত্মক ধর্মের প্রয়োজন, সেই প্রয়োজন থেকেই বকল্পিক ধর্মের সৃষ্টি হয়, সেখানেই ভারতবর্ষের জীবন-দেবতার আবাস।

* পাঠকগণ, এই লেখকের আরো একটি বইয়ের পিডিএফ সংগ্রহ করতে পারেন -
   > মহাভারতের ভারতযুদ্ধ এবং কৃষ্ণ

আমি দুটি ঘটনার উল্লেখ করবো এখানে। আমার পিতাঠাকুর খুব কড়া ধাতের নৈতিক মানুষ ছিলেন। আমার অতিবাল্যে পৈতের সময় সারা দিন স্মার্ত ক্রিয়াকর্মের পর সন্ধে গড়িয়ে যেতেই রাত্রির ভাত খাওয়া বন্ধ হল। তেমন খাওয়া নাকি নিয়ম নয়। ভাগ্যবশত আমাদের কুলপুরোহিত মহামান্য পণ্ডিত ছিলেন এবং ছিলেন পরম উদার। তিনি শুধু এক বালকের উপনয়নের অর্থ না বোঝ বুভুক্ষা দেখেও কোনো তিরস্কার করলেন না। আমার পিতার নাম ধরে ডেকে তিনি বললেন – একটা বিকল্প আছে শোনো। আট রকমের পরিস্থিতি কোনো ব্ৰত নষ্ট করে না - অষ্টৈতদ্ অব্ৰতঘ্নানি। জল, মূলজাতীয় বস্তু শাকালু ইত্যাদি, ফল, দুধ এবং ঘি – এগুলোর উপবাসের অনুকল্প, এগুলো খাওয়ায় দোয হয় না। দোষ হয় না শরীর খারাপের জন্য ওষুধ খেলে, এমনকী ব্রতবিরোধী পথ্য খেলেও। এই ছয়ের সঙ্গে আর দুটি বিকল্পের উচ্চারণ ছিল চরম মানবিক। কোনো নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ যদি ইচ্ছে করেন, কিংবা আদেশ দেন গুরু, তাহলেও ব্রতের অন্যথা করা যায়, ব্রতভঙ্গও করা যায় - হবিব্রাহ্মণকাম্যা চ গুরোর্বচনম্ ঔষধম্। আমি সেদিন ব্রাহ্মণের কামনায়, কুলগুরুর আদেশে রাত্রিবেলায় সুন্দর রাত্রিভোজন করেছিলাম, সেটা যদিও হবিষ্যান্ন ছিল। কিন্তু তার স্বাদ এবং ব্রতভঙ্গের তথাকথিত অনৈতিক স্বাদ একত্রে বড়ো মধুর ছিল।
আর একটি দুর্ঘটনায় মৃত্যুর চিতায় চিরশায়িত ছিলেন এক পিতা, পাশে দাঁড়িয়ে ছিল তার নয় বছরের পুত্র, শশাকাহত, নিস্পন্দ। আত্মীয়-স্বজন শাস্ত্রীয় বিশুদ্ধতায় ওই ছেলেটির হাতে পাটকাঠি ধরিয়ে দিল প্রিয় পিতার মুখাগ্নি করার জন্য। সেই অবস্থায় শ্মশান-পুরোহিত, যিনি মৃত্যু দেখে-দেখে, মৃতদেহ দেখে-দেখে সাধারণত ভাবলেশহীন থাকেন তিনি বললেন - ওঁর নিকট-আত্মীয় কেউ মুখাগ্নি করুন, ছেলেটিকে এই বীভৎস কষ্টের মধ্যে রাখবেন না, ওকে বাড়ি নিয়ে যান কেউ। আমার ভারী ভাল লেগেছিল শ্মশান পুরোহিতের এই তথাকথিত অশাস্ত্রীয় অনুশাসন।
আমি শুধু বোঝাতে চাই, নীতির এই শাস্ত্রীয় অতিক্রম মানুষের জীবনের ক্ষেত্রেও এইরকম দেশ-কাল-পাত্র এবং পরিস্থিতি-নির্ভর। বস্তুত সেই সব অতিক্রমের মধ্যে যদি বৃহত্তরের শ্রেয়োসাধন ঘটে, যদি দলিত-বঞ্চিতের আত্মপ্রতিষ্ঠা ঘটে, ন্যায়-রূপী অন্যায়ের প্রতিবিধান ঘটে, তবে সেই অতিক্রমও কিন্তু মানুষের জীবন-নীতির প্রসন্নতা লাভ করে। অথচ সেই নীতি শাস্ত্রীয় শব্দপাঠের প্রমাণে প্রতিষ্ঠা করা যায় না; সেই নীতির প্রতিষ্ঠা হয় মহাকাব্যিক চেতনায়, মহত্তরের অনৃশংস বৃত্তিতে। এই গ্রন্থ সেই মহাভারতীয় নৈতিকতার পরিপ্রেক্ষিত-মাত্র।- নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

সূচীপত্র-
প্রাচীন রাজতন্ত্র বনাম আধুনিক গণতন্ত্র
মহাভারতে নীতির দ্বন্দ
জমি-অধিগ্রহণ : তৎকাল
নীতিকথায় রাজনীতি
দ্বিচারিতা ছলনা এবং মহাভারত
মহাভারতের রাজনীতি
প্রাচীন ভারতের দণ্ডনীতি
রামায়ণের নীতি-ধর্ম


উপরোক্ত বাংলা বইটির পিডিএফ ফাইল সংগ্রহ করুন অথবা অনলাইনে পড়ুন
*এই লেখকের অনান্য অরিজিনাল বই গুলি পাবার জন্য এখানে দেখুন
প্রিয় পাঠকগণ সংগ্রহ করে নিন মহাভারতের উপর অসাধারণ একটি দর্শনের বই- 'মহাভারত নীতি অনীতি দুর্নীতি- নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী' বাংলা বই পিডিএফ

No comments:

Post a Comment